Logo
HEL [tta_listen_btn]

ঘর পাচ্ছেন অন্ধ আজগর

ঘর পাচ্ছেন অন্ধ আজগর

আড়াইহাজার সংবাদদাতা
চক্ষু নাই। থাকলে পাকা ঘরটা কেমন সুন্দর দেখতাম। অহন কব্বরে গিয়াও শান্তিতে ঘুমাইতে পারমু। প্রধানমন্ত্রী আমারে একটা পাকা ঘর দিছে। আমি অন্ধমানুষ। জমি পাইলাম লগে ঘরও পাইলাম। শেষ বয়সে আমি সবই পাইলাম। এভাবেই কৃতজ্ঞা প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনার জন্য দোয়া করছিলেন অন্ধ ঝালমুড়ি বিক্রেতা আজগর আলী। ৬৮ বছর বয়সী আজগর আলী আড়াইহাজারউপজেলার গোপালদী পৌরসভার দাইরাদি গ্রামের বাসিন্দা। জানা গেছে, আজগর আলী একজন দৃষ্টি প্রতিবন্ধী। স্বাধীনতার আগে পরে তার দু’টি চোখ অসুখে নষ্ট হয়ে যায়। আড়াইহাজার উপজেলার গোপালদী পৌরসভার দাইরাদী গ্রামের বাসিন্দা অন্ধ আজগর আলীকে সবাই ঝালমুড়ি বিক্রেতা হিসেবেই চিনে। ভিক্ষা না করে ঝালমুড়ি বিক্রি করতো বলে আশপাশের দশ গ্রামের মানুষ তাকে সমীহ করতো। প্রতিবন্ধী হয়েও জীবনে কারো কাছে হাত পাতেনি। ভিক্ষা না করে কাজ করেছেন।ঝালমুড়ি বিক্রি করে সংসার চালাতেন। দীর্ঘ ৫০ বছর স্ত্রী খুরশিদা বেগমের কাধে হাত রেখে হাটে বাজারে ঘুরে ঘুরে ঝালমুড়ি বিক্রি করে অভাবের সংসারের চাকা ঘুরিয়েছেন। রোদ বৃষ্টি ঝড়ঝঞ্জা মাথায় নিয়েই এক সময় ঝালমুড়ি বিক্রি করতেন। জীবন যুদ্ধে কখনো হার মানেনি অন্ধ আজগর আলী। জীবন সায়াহ্নে এসে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। ঝালমুড়ি বিক্রি করতে পারেন না। এক বছর ধরে বিছানায় ছটফট করে মরেন। মেয়ের কাছে ঠাঁই মিলে ছিলো। দু’বেলা খেতে পান। মেয়ে রতœা বৃদ্ধ পিতা-মাতাকে ঠাঁই দিয়েছেন স্বামীর বাড়িতে। অনেক গঞ্জনা সহ্য করে পুরনো টিন দিয়ে কোন মতে একটি ছোট একচালা টিনের ঘর বানিয়ে দিয়েছিলো। বুড়ো-বুড়ি কোনমতে একটি চৌকি পেতে সেখানে রাত কাটাতেন। মেয়ের আশ্রয়েই দিন কাটতো আজগর আলীর। সেই আজগর আলী জেলা প্রশাসক মঞ্জুরুল হাফিজের নির্দেশে আড়াইহাজার এর ইউএনও অফিস বিষয়টি আমলে নিয়ে আজগর আলীকে প্রধানমন্ত্রীর একটি উপহারের ঘর বরাদ্ধ দেয়। প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর পেয়ে অন্ধ আজগর আলী খুবই খুশি। তার জীবন সার্থক বলে তিনি মনে করেন। জানা গেছে, আড়াইহাজার উপজেলায় মোট তালিকাভুক্ত ভূমিহীন পরিবার ছিল ৩শ’ ৪৮টি। এরমধ্যে বেশ কিছু পরিবার বসবাসে অনিচ্ছুক থাকায় পুনরায় যাচাই বাছাই অন্তে হালনাগাদকৃত প্রকৃত ভূমিহীন ও গৃহহীন অসহায় দুস্থ পরিবারের সংখ্যা দাড়ায় ২শ’ ৯৬। এর মধ্যে ২শ’ ৪৪টি পরিবার ইতোমধ্যে ১ম পর্যায়ে ৩১টি, ২য় পর্যায়ে ২৮টি এবং ৩য় ধাপে ১ম পর্যায়ে ৫০টি ও ৩য় ধাপের ৪র্থ পর্যায়ে ১শ’ ৩৫টি পুনর্বাসিত করা হয়েছে। অবশিষ্ট ৫২টি পরিবারকে পুনর্বাসনের নিমিত্তে ৪র্থ ধাপের বরাদ্দ পাওয়া গেছে এবং ব্রাহ্মন্দী ও রামচন্দ্রদী আশ্রয়ন প্রকল্পে গৃহ নির্মাণ এর কার্যক্রম চলমান রয়েছে। উপজেলার হাইজাদী, রামচন্দ্রদী, সাদারদিয়া, কামরানির চর, খাসেরকান্দি,ব্রাক্ষন্দী, ঝাউগড়া, শ্রীনিবাসী, চৈতনকান্দা ও সাতগ্রামে এই সকল ঘর বরাদ্ধ দেয়া হয়েছে। আড়াইহাজার উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইশতিয়াক আহমেদ বলেন, প্রধানমন্ত্রীর দেয়া পবিত্র দায়িত্ব এই আশ্রয়ণ প্রকল্প। এই প্রকল্পটির কাজ করে রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি অসহায়, দরিদ্রদের পাশে দাঁড়িয়ে যে অনুভূতি তৈরি হয় তা অসাধারণ।
সহকারি কমিশনার (ভূমি) পান্না আক্তার বলেন, আড়াইহাজার উপজেলায় আশ্রয়ন প্রকল্পের কার্যক্রম মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা এবং কৃষি খাস জমি বন্দোবস্ত নীতিমালা যথাযথ ভাবে অনুসরণ পূর্বক বাস্তবায়িত হচ্ছে। মোট ভূমিহীন ২শ’ ৯৬টি পরিবারের মধ্যে ২শ’ ৪৪টি পরিবারকে আমরা ইতোমধ্যে পুনর্বাসিত করেছে। সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম বাবু বলেন, আশা করছি খুব দ্রæতই আড়াইহাজার উপজেলা ভূমিহীন মুক্ত ঘোষণা করা হবে। একটি মানুষও গৃহহীন থাকবে না মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অঙ্গীকার বাস্তবায়নে আমরা সর্বদা সচেষ্ট রয়েছি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Theme Created By Raytahost.Com