নিজস্ব সংবাদদাতা
সারাদিন রোজা রাখার পর এক গøাস শরবত ক্লান্তি দূর করার অন্যতম মাধ্যম। সাধারণত রুহ আফজা, লেবু, ইসবগুল, তোকমা ও তালমাখনা ইফতারে শরবত বানাতে সবচেয়ে বেশি ব্যবহার হয়ে থাকে। তবে, বাজারের অন্য সামগ্রীর পাশাপাশি দাম বৃদ্ধির কারণে শান্তি মিলছেনা এখানেও। এবছর দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ছুঁয়ে গেছে এসব পণ্যেও। বেড়েছে দাম। শনিবার (২৫ মার্চ) রমজানের দ্বিতীয় দিনে শহরের বিভিন্ন বাজার ও স্থানীয় দোকান ঘুরে এমনটাই দেখা মিললো। বিক্রেতারা বলছে, বেশি দামে কেনার কারণেই বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। রুহ আফজার দাম বোতলের গায়ে লেখা দামে বিক্রি করা হলেও ক্রেতা কম বলে জানায় বিক্রেতারা। ৭৫০ মি.লি. রুহ আফজার বোতল বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ টাকা এবং ৩০০ মি.লি. ১৫০ টাকা। অপরদিকে, লেবুর বাজার অস্থির হয়ে রয়েছে। তদারকি না থাকায়, যেমন খুশি তেমন দামে বিক্রি করছে বিক্রেতারা। বাজারে ছোট আকারের লেবু বিক্রি হচ্ছে ৫০-৬০ টাকা হালি আর একটু বড় আকারের লেবু ৮০-৯০ টাকার উপরে। যা কোথাও কোথাও ১০০ টাকা করে হালিও বিক্রি করা হচ্ছে। লেবু বিক্রেতা মো. হাসান বলেন, আমাদের কিনা পরে বেশি দামে, কম দামে কেমনে দিমু। লেবুর চাহিদা বেশি থাকার কারণেই দাম বাড়িয়ে বিক্রি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন আবুল হাশেম নামের এক ক্রেতা। ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, যৈ লেবু গতকালও ৩ টাকা করে হালি কিনেছি সেটা আজ ৫০-৬০ টাকা করে চাচ্ছে। প্রয়োজন দেখলেই তাদের দাম বাড়ানোর প্রবণতা হয়ে গেছে। অন্যদিকে, শহরের দিগুবাবুর বাজারে প্রতি ১০০ গ্রাম ইসবগুলের ভুসির প্যাকেট বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকা। বিক্রেতা খালেক মিয়া বলেন, গত বছর একই পরিমাণের এক প্যাকেটের দাম ছিল ৮০ টাকা। এবার ভুসির দাম কেজিপ্রতি ৪০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। একইভাবে প্রতি ১০০ গ্রাম ইসবগুলের দানার প্যাকেট ৫০ টাকায় বিক্রি করছেন খালেক মিয়া। তিনি জানান, দানার কেজি এখন ৫০০ টাকা, আগে ৩৫০ টাকা ছিল। বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতি ১০০ গ্রাম তোকমা দানা বাজারভেদে ২০ থেকে ৩০ টাকা, তালমাখনা ৪৫ থেকে ৫০ টাকা, চিয়া সিড ৮০-৯০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। এছাড়াও কাতিলা গাম ৪৫ থেকে ৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এই সবগুলো উপকরণের মিশ্রণ একসঙ্গে (মিক্সার) প্রতি ১০০ গ্রাম বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকায়। বাজারের বিক্রেতা মুক্তার হোসেন বলেন, ইসবগুল, চিয়া সিডের দাম সব থেকে বেশি বেড়েছে। এই দুই পদের পণ্যের চাহিদাও বেশি। তিনি বলেন, আগে ১০০ গ্রাম চিয়া সিড ছিল ৪০ টাকা। এবার দাম দ্বিগুণ। এছাড়া কাতিলা গাম কেজিতে ১০০ টাকা বেড়েছে। শুধু বাড়েনি শাহি দানার দাম। মূলত বেশি দামে কেনা পড়ছে বিধায় বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। পাইকারিতে সবকিছুর দামই অল্পস্বল্প বেড়েছে। তবে খুচরা পর্যায়ে অনেক কিছুর দাম আমরা বাড়াইনি। দাম বৃদ্ধির কারণে এসব পণ্যের বিক্রি আগের তুলনায় অনেক কমেছে বলেও দাবি করেন বিক্রেতারা।
গোপনীয়তা নীতি | এই ওয়েবসাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।