নিজস্ব সংবাদদাতা
মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টদের ১০ম গ্রেড বাস্তবায়নের দাবিতে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল ভিক্টোরিয়া হাসপাতালে কর্মবিরতি ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রোববার (৩০ নভেম্বর) সকাল ৯টা থেকে ১১টা পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ জেনারেল ভিক্টোরিয়া হাসপাতালে এই কর্মবিরতি পালন করা হয়। একইসঙ্গে সারা দেশের সরকারি হাসপাতালগুলোতে একই সময়ে দুই ঘণ্টার এই কর্মবিরতি পালন করা হয়।
এ সময় কর্মবিরতি ও মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন মেডিকেল টেকনোলজিস্ট আলী আকবর খান, মোঃ হযরত আলী, সুকান্ত দাস, মোঃ শামীম আল মামুন, প্রদীপ কুমার তরফদার, কামাল হোসেন এবং ফার্মাসিস্টদের মধ্যে মোঃ রিপন মিয়া, মোঃ নূরুল আলম, শিল্পী আক্তার, উম্মে কুলসুম, ডালিয়া আক্তার বৃষ্টি, আবু তালহা প্রমুখ।
সেবা নিতে আসা রোগীদের সাময়িক ভোগান্তির জন্য দুঃখ প্রকাশ করে মেডিকেল টেকনোলজিস্ট মোঃ শামীম আল মামুন বলেন, “আজ আমাদের দুই ঘণ্টার কর্মবিরতি সারা বাংলাদেশে পালন করা হয়েছে। দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে আমরা সরকারকে জানিয়ে আসছি এবং আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছি। আমাদের সমমানের অন্যান্য ডিপ্লোমাধারীদের তৃতীয় শ্রেণীর কর্মকর্তা মর্যাদা দেওয়া হলেও আমাদের ক্ষেত্রে বৈষম্য করা হচ্ছে। এই বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশে এই বৈষম্যের অবসান চাই। আমাদের পদমর্যাদা তৃতীয় শ্রেণীতে উন্নীত করতে হবে।”
তিনি আরও বলেন,“আমাদের কর্মসূচি ধাপে ধাপে দেওয়া হয়েছে। আজ দুই ঘণ্টা, ৩ তারিখে অর্ধদিবস, আর ৪ তারিখ থেকে সম্পূর্ণ ‘শাটডাউন’ করার ঘোষণা করা হয়েছে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চলমান থাকবে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও আমাদের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন।”
এর আগে দাবি আদায়ের লক্ষ্যে মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টরা দশম গ্রেড বাস্তবায়ন পরিষদের প্রধান উপদেষ্টার কাছে একটি স্মারকলিপি নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে হস্তান্তর করেন।
স্বারকলিপিতে উল্লেখ করা হয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় অনুমোদিত এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের নিয়ন্ত্রিত মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টরা রোগ নির্ণয় ও ঔষধ ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। স্বাস্থ্যসেবা একটি ‘টিম ওয়ার্ক’ যার অংশ হিসেবে চিকিৎসক ও নার্সদের পাশাপাশি তারা অপরিহার্য ভূমিকা পালন করেন। করোনা, ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়াসহ বিভিন্ন মহামারীতে তারা রোগ নির্ণয় ও ঔষধ সরবরাহে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছেন।
স্বারকলিপিতে আরও বলা হয় অন্যান্য ডিপ্লোমাধারী যেমন ডিপ্লোমা প্রকৌশলী (১৯৯৪), ডিপ্লোমা নার্স (২০১১) এবং ডিপ্লোমা কৃষিবিদরা (২০১৮) ইতোমধ্যে দ্বিতীয় শ্রেণীর (১০ম গ্রেড) কর্মকর্তা পদমর্যাদায় উন্নীত হলেও সমমানের শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টদের এ দাবি এখনও বাস্তবায়িত হয়নি।
১০ম গ্রেড বাস্তবায়নের জন্য ০১/১০/২০২৪, ০৩/১২/২০২৪ ও ১১/১২/২০২৪ তারিখে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হয়। এর প্রেক্ষিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর হতে ০১/০১/২০২৫ তারিখে সচিব, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগে প্রস্তাবনা পাঠানো হয় এবং সর্বশেষ ১৬/১১/২০২৫ তারিখে ফাইলটি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করা হয়। কিন্তু এখনও পর্যন্ত লাল ফিতার দৌরাত্ম্য ও দাপ্তরিক বিলম্বের কারণে বিষয়টি অনিশ্চিত অবস্থায় রয়ে গেছে স্মারকলিপিতে সারাদেশের সরকারি, বেসরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে কর্মরত মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টদের ন্যায্য দাবি দ্রুত বাস্তবায়নের জোর দাবি জানানো হয়।
গোপনীয়তা নীতি | এই ওয়েবসাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।