Logo

আড়াইহাজারে সিএনজি ও অটো চালকদের মানবেতর জীবন

আড়াইহাজারে সিএনজি ও অটো চালকদের মানবেতর জীবন

বিশেষ প্রতিনিধি:
বৈশ্বিক সমস্যা (কোভিড-১৯)-এর ছোবলে থমকে গেছে আড়াইহাজারে সিএনজি ও অটো চালকরা মানবেতর জীবনযাপন করছেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রায় এক হাজারের বেশী সিএনজি অটো রিকশা ও (ব্যাটারি) চালিত অটো রিকশা রয়েছে। করোনাভাইরাসের প্রাদুভার্বের কারনে স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী সকাল ৬ থেকে বেলা ১০টা পর্যন্ত চলাচল করতে পারছে। এতে বিপুল সংখ্যক চালকের আয়রোজগারের পথ থমকে গেছে। তাদের সংসার পরিচালনা করতে বেগ পেতে হচ্ছে। অনেকেই জানিয়েছেন, এ পর্যন্ত সরকারি কিংবা বেসরকারি কোনো পক্ষ থেকেই কোনো প্রকার খাদ্যসহযোগিতা পায়নি। অপরদিকে উপজেলা প্রকল্পবাস্তবায়ন অফিস থেকে সর্বশেষ পাওয়া তথ্যে জানা গেছে, এ পর্যন্ত প্রায় ২৭ হাজার হতদরিদ্র পরিবারের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে এর পরিধি আরো বৃদ্ধি করা হবে। আড়াইহাজার পৌরসভার এলাকার কয়েকটি স্ট্যান্ড ঘুরে দেখা গেছে, সিএনজি ও অটো চালকরা অবসর সময় কাটাচ্ছেন। তারা যাত্রীর অপেক্ষায় ভোর থেকেই অবস্থান করছিলেন। কিন্তু মিলছে না কাঙ্খিত যাত্রী। সিএনজি চালক আবদুল হাই বলেন, কয়েক দিন আগেও দৈনিক প্রায় ১ হাজার থেকে এক হাজার দুইশত টাকা রোজগার হতো। মালিকের জমা দিয়ে ভালোভাবেই সংসার চলতো। বর্তমানে যে টাকা রোজগার হচ্ছে। এতে একদিকে মালিকের জমা দিতে পারছি না। অপরদিকে সংসারও চলছে না। এমন ভয়াবহ পরিস্থিতি এর আগে মোকাবেলা করেনি। তিনি আরো বলেন, আমার পরিবারে সদস্য সংখ্যা ৬জন। এখন তিনবেলা খাবার জোগানই কষ্ট সাধ্য হয়ে পড়ছে। স্থানীয় উচিতপুরা এলাকার অটো চালক রফিকুল ইসলাম বলেন, করোনাভাইরাস পরিস্থিতির আগে দৈনিক ৭০০ থেকে ৮০০টাকা আয় করতে পারতাম। এখন তা হচ্ছে না। পরিবারে ৭জন সদস্য। তাদের খাবার জোগাতে হিমশিম খাচ্ছি। তিনি অভিযোগ করেন, সরকারি বা বেসরকারি কোনো ব্যক্তি বা পক্ষই এ পর্যন্ত তাকে কোনো প্রকার সহযোগিতা করেনি। স্থানীয় কামরানির চর এলাকার অটো চালক জসিম বলেন, কোনো প্রকার উপায় না পেয়ে পেটের দায়ে গাড়ি নিয়ে বের হতে হচ্ছে। তিনি নিজের ভাষায় আরো বলেন, ‘আমার পরিবারে প্রতিদিন ৫০০টাকার মতো খরচ হয়। কিন্তু রোজগার হয় সারাদিনে মাত্র ২০০টাকা। এতে ছেলেপোলে নিয়া কোনো মতে চলছে। এইভাবে আর কয়দিনই বা চলা যাবে। চিন্তায় আমার রাতে ঘুম আসে না।’ গোপালদী এলাকার সিএনজির মালিক সোরাব হোসেন বলেন, আমার তিনটি সিএনজি রয়েছে। আগে প্রতিদিন ৬০০টাকা জমা নিতে পারতাম। করোনা পরিস্থিতির কারনে এখন জমা নিতে কষ্ট হচ্ছে। দিনশেষে তিনটি গাড়ি থেকে মাত্র ৩০০টাকা জমা দেয়া হচ্ছে। এতে আমার সংসার চালাতে বেগ পেতে হচ্ছে। উপজেলা প্রকল্পবাস্তবায়ন কর্মকর্তা আবু সাঈদ মল্লিক বলেন, এ পর্যন্ত ২৭ হাজার পাঁচশত হতদরিদ্র পরিবারের মাঝে খাদ্যসহযোগিতা দেয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে এই সহযোগিতা আরো বৃদ্ধি করা হবে।

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published.

1 + fifteen =


Theme Created By Raytahost.Com