Logo

রূপগঞ্জে বিএনপি নেতাকর্মীদের বাড়ি লুট

রূপগঞ্জে বিএনপি নেতাকর্মীদের বাড়ি লুট

রূপগঞ্জ সংবাদদাতা
রূপগঞ্জে ফের বিএনপি নেতাকর্মীদের বসতবাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাংচুর ও লুটপাট করার অভিযোগ উঠেছে। কয়েকজনকে পিটিয়ে আহতও করা হয়। রোববার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাতে চনপাড়া পুনর্বাসন কেন্দ্র এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। অপর দিকে, ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে যুবলীগ-ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সংঘর্ষের ঘটনায় জেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি মাসুদুর রহমানসহ ১০ জনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাত দেড়শ’ জন বিএনপি সমর্থকের বিরুদ্ধে মামলা করেছে এক ছাত্রলীগ নেতা। ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের উপর হামলা ও মটরসাইকেল ভাংচুরের অভিযোগ এনে সোমবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকালে রূপগঞ্জ থানায় মামলাটি করেন ভুলতা ইউনিয়ন ছাত্রলীগের প্রচার সম্পাদক হানিফ মিয়া। মামলার আসামীরা হলো, জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি মাসুদুর রহমান, মাসুম, সাহাবুদ্দিন, ওমাইনি, বাবু, শিশির, রনি হাসান মাটি, সাব্বির, রাতুল, আল-আমিন। এদিকে, মামলা করার পর থেকেই নেতাকর্মীসহ বিএনপি সমর্থকরা গ্রেফতার আতঙ্কে রয়েছে। অনেকেই এলাকা ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছেন। বাদি ও ভুলতা ইউনিয়ন ছাত্রলীগের প্রচার সম্পাদক হানিফ মিয়া মামলার এজাহারে উল্লেখ করেন, ১৭ সেপ্টেম্বর রাতে উল্লিখিত ওই ১০ জনসহ অজ্ঞাত প্রায় দেড়শ’ লোক লাঠিসোটা, ককটেল, পিস্তল, রামদা ও দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে আউখাব অনুপম গার্মেন্টের সামনে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে মশাল মিছিল বের করে টায়ারে অগ্নিসংযোগ করে। এসময় চাচা রুহুল আমিন ও সানিকে এলোপাথারি ভাবে কুপিয়ে ও পিটিয়ে আহত করে। পরে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ৩টি মটরসাইকেল ভাংচুর করা হয়। এ ব্যাপারে জেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি মাসুদুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, আমাদের শান্তিপূর্ণ মিছিলে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ক্যাডাররা অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে অতর্কিত হামলা করে আহতের ঘটনা ঘটায়। এরপর আমার বাড়িতে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাংচুর চালায় এবং অগ্নিসংযোগ করা হয়। ভাংচুরে বাঁধা দিতে গেলে বাবা সাহাবুদ্দিন ও মাকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। এছাড়া যুবদল নেতা নুরুর ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাংচুর চালায় এবং লুটপাট করে। মাসুদুর অভিযোগ করে আরো বলেন, আমাদের উপর হামলা করে আহতের ঘটনা ঘটিয়ে বাড়িঘর, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা ভাংচুর লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটিয়ে উল্টো আমাদের নামেই মামলা দেয়া হয়েছে।
চনপাড়া পূর্ণবাসন কেন্দ্রের বিএনপি’র সভাপতি হারুন মিজি অভিযোগ করে জানান, গডফাদার ইউপি সদস্য বজলুর রহমান বজলুর নির্দেশনায় সন্ত্রাসী সিটি শাহিনের নেতৃত্বে সন্ত্রাসীরা অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে রোববার রাত ১১টার দিকে চনপাড়া পূর্ণবাসন কেন্দ্র এলাকার বিএনপি নেতাকর্মীদের উপর তান্ডব চালায়। হামলা ভাংচুর চালানো হয়, বিএনপি কর্মী হযরত আলীর বাড়িতে। ৬নং ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি মাসমকে এলোপাথারি ভাবে পিটিয়ে আহত করে বাড়িঘরে হামলা ভাংচুর ও লুটপাট চালানো হয়। বিএনপি নেতা ইউসুফ আলীর বাড়িঘরে হামলা চালিয়ে ভাংচুর চালানো হয়।
তবে, ইউপি সদস্য বজলুর রহমান বজলুর ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। উপজেলা বিএনপির সভাপতি এড. মাহাফুজুর রহমান হুমায়ুন বলেন, আমাদের নেতাকর্মীদের বাড়িঘরে হামলা চালিয়ে ভাংচুর লুটপাট চালানো হচ্ছে। আহত করা হচ্ছে নেতাকর্মীসহ পরিবারের সদস্যদের। এসব সন্ত্রাসী কর্মকান্ড বন্ধ করা না হলে কঠোর ভাবে জবাব দেয়া হবে। এ বিষয়ে রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এএফএম সায়েদ বলেন, এক পক্ষ অভিযোগ দিয়েছেন মামলা নিয়েছি। আরেকপক্ষ অভিযোগ দিলে সেটাও তদন্ত করে মামলা নেয়া হবে।
জেলা বিএনপির নিন্দা
রুপগঞ্জে ছাত্রদলের মিছিলে হামলা এবং নেতাকর্মীদের বাড়িঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ভাংচুরের ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপি। সোমবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সংগঠনের পক্ষে ভারপ্রাপ্ত আহŸায়ক মনিরুল ইসলাম রবি ও সদস্য সচিব অধ্যাপক মামুন মাহমুদ এই নিন্দা জানিয়েছেন। বিবৃতিতে তারা বলেছেন, দেশব্যাপী আওয়ামী নৈরাজ্য ও সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে ১৭ সেপ্টেম্বর রূপগঞ্জের ভুলতা এলাকায় ছাত্রদলের আয়োজিত শান্তিপূর্ণ মশাল মিছিলে আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের সন্ত্রাসীরা ন্যাক্কারজনক সন্ত্রাসী হামলা চালিয়ে অসংখ্য নেতাকর্মীকে আহত করে। পরবর্তীতে ১৮ সেপ্টেম্বর বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন নেতাকর্মীদের বাড়িতে ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাংচুর করে এবং পরিবারের সদস্যদেরকে মারধর করাসহ ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে মারাত্মকভাবে জখম করে। এসময় তারা ভুলতা ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি শাকিল আহমেদ নুরুর দোকান লুট করে মালামাল ও টাকা ছিনিয়ে নিয়ে নিয়ে যায়, সেচ্ছাসেবক দল নেতা শরিফের দোকানের টিভি, ফ্রিজসহ মালামাল লুট করে। নারায়নগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি মাসুদের বাড়িতে ব্যাপক ভাংচুর লুটপাট করেছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বিভিন্ন অনাচার, নৈরাজ্য ও দুর্নীতির প্রতিবাদ করা একটি গণতান্ত্রিক দেশের নাগরিকদের মৌলিক অধিকার। জনগণের এই মৌলিক অধিকার সমুন্নত রাখার জন্য বিএনপি প্রতিনিয়ত সংগ্রাম করে যাচ্ছে। সরকার চাচ্ছে এই ভাবে হামলা নির্যাতনের মাধ্যমে জনগণের প্রতিবাদের ভাষা বন্ধ করে রাখতে। তাদের দুর্নীতি দুঃশাসনের ভয়াল রাজত্ব চালিয়ে রাখার জন্য তারা জনগণের বিরুদ্ধে তাদের গুন্ডা বাহিনীকে ক্রমাগত ব্যবহার করে যাচ্ছে। তবে সরকার এইভাবে বেশি দিন তাদের অপশাসন বজায় রাখতে পারবে না। জনগন ফুসে উঠেছে, আর অচিরেই এই জনরোষেই এই সরকারের বিদায় ঘন্টা বাজবে। আমরা এই সন্ত্রাসী হামলা ও ভাংচুরের ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানাই এবং অবিলম্বে এই সন্ত্রাসীদেরকে আইনের আওতায় এনে গ্রেফতারের দাবি করছি। একেই সাথে সন্ত্রাসী হামলা ও লুটপাটের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published.

two + 12 =


Theme Created By Raytahost.Com